কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন যমুনা ও মেঘনা অয়েল কোম্পানি পরিচালিত দুটি ভাসমান জ্বালানি ডিপো প্রায় চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ডিপো বন্ধ থাকায় স্থানীয় কৃষক এবং নৌ ও সড়ক পরিবহনসংশ্লিষ্টরা তীব্র সংকটে পড়েছেন। সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে।
১৯৮৯ সালে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে চিলমারীতে মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির দুটি ভাসমান ডিপো স্থাপন করা হয়। এখান থেকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তেল সরবরাহ করা হতো। তবে কর্তৃপক্ষ ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকটের কথা বলে চার বছর আগে ডিপো দুটি বন্ধ করে দেয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই পথ দিয়ে নিয়মিত ফেরি চলাচল এবং ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু থাকলেও ডিপোতে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি যমুনা অয়েল ও ২২ ফেব্রুয়ারি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের তেল শেষ হওয়ার পর থেকে ডিপো দুটিতে তেল আসা বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ডিলার সূত্র জানায়, তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও ডিপো দুটি তেলশূন্য হয়ে পড়ায় পার্বতীপুর বা রংপুর ডিপো থেকে ১০১ টাকা ৭০ পয়সায় কিনে সড়কপথে তেল আনতে অতিরিক্ত পরিবহন, ঘাটতি ও লেবার খরচ প্রতি লিটারে প্রায় ২ টাকা বেশি হয়। সব মিলিয়ে ডিলারদের তেল কিনে চিলমারী পর্যন্ত আনতে প্রায় ১০৩ টাকা ৭০ পয়সা পড়ে। এরপর খুচরা বিক্রেতা থেকে খুচরা ক্রেতা। ফলে কৃষকদের তেল কিনতে হচ্ছে ১০৬-১১০ টাকায়।
ভাসমান ডিপো দুটি উপজেলার জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটানোর পর পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর, যাত্রাপুর, সাহেবের আলগা, রৌমারী, রাজিবপুর, সানন্দবাড়ী, জাফরগঞ্জ, কামারজানী ও উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সেচ মৌসুমে ভাসমান তেল ডিপো থেকে প্রতিদিনের তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫০ ব্যারেল বা ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার এবং ব্রহ্মপুত্র নদে চালিত নৌকা, ড্রেজার মেশিন, জমি চাষের ট্রাক্টর, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চালিত জেনারেটর, মাহেন্দ্র গাড়ি, নছিমন-করিমনসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালনার জন্য প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ১০০-১৫০ ব্যারেল বা ২০-৩০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি চরাঞ্চলে ব্যাপক ভুট্টা চাষের জন্য জমি চাষ ও সেচ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা রয়েছে।
চরের কৃষক আবুল হোসেন জানান, আগে চিলমারীর ডিপো থেকে কম দামে ডিজেল পেতেন, যা সেচকাজে ব্যবহার হতো। এখন বেশি দামে পাম্প থেকে ডিজেল কিনতে হচ্ছে, ফলে তাদের খরচ বেড়ে গেছে। ডিলার মনজু মিয়া জানান, ডিপো চালু থাকলে নৌপথে কম খরচে তেল আনা যেত এবং তা তুলনামূলক কম দামে সরবরাহ করা সম্ভব হতো।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক বলেছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ডিপো দুটি চালুর পদক্ষেপ নেয়া হবে।